পাতা

অফিস সম্পর্কিত

বাংলাদেশের পাহাড়-পর্বত, ঝিরি-ঝর্না বেষ্টিত পার্বত্য অঞ্চলটি অত্যন্ত মনোরম একটি এলাকা। এখানে স্মরণাতীতকাল থেকে ১১টি পাহাড়ি জাতিসত্ত্বা বাস করে থাকে।সরকারিভাবে তাদেরকে বর্তমানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বলা হয়ে থাকে। এ সকল জাতিসত্ত্বাসমূহ হচ্ছে-চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, ম্রো, বম, চাক, পাংখোয়া, খিয়াং, খুমী ও লুসাই। তাদের প্রত্যেকের রয়েছে স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। এ সকল ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন যা দেখলে চোখ ধাঁধিয়ে যায়। বিশেষত তাদের ঐতিহ্যবাহী নৃত্যসমূহ এতই দৃষ্টিনন্দন যে যা যেকোনো মানুষকে মোহিত করে থাকে। এসকল চোখ ধাঁধানো ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকে সংরক্ষণ, প্রচার ও প্রসারের লক্ষে সরকার ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিভাগের স্মারক নং-F2/49/76-(c)/500/7, Dhaka dated 22.6.1976 মূলে রাঙ্গামাটিতে উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট নামে একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন ২০১০(২০১০-এর ২৩ নং আইন) মূলে বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানের নাম ‌ক্ষদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিইটউট। আইন মূলে এ প্রতিষ্ঠানটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা। প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে এ প্রতিষ্ঠান তার ৪টি শাখার মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির সংরক্ষণ, উন্নয়ন, প্রচার ও প্রসারের লক্ষে এ প্রতিষ্ঠানটি নিরলসভাবে নানামূখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। ২০০৩ খ্রিস্টাব্দে ইনস্টিটিউটের অধীনে একটি স্বতন্ত্র জাদুঘর খোলা হয়েছে। এটি বাংলাদেশে প্রথম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জাদুঘর। এখানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের দৈনন্দিন ব্যবহার্য তৈজসপত্র, ঐতিহ্যবাহী জিনিসপত্র, পুরনো পুঁথি, রাজাদের ব্যবহার্য্য ঐতিহ্যবাহী জিনিসপত্র, পুরনো মুদ্রা, অলংকার, পোশাক-পরিচ্ছদ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের জীবনযাত্রার উপর পেইন্টিং-আলোকচিত্র, তিন সার্কেলের মানচিত্র ইত্যাদি সংরক্ষণ ও দর্শণার্থীদের জন্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইনস্টিটিউটের পাঠাগারে প্রায় দশ হাজার বিভিন্ন ক্যাটাগরির বই রয়েছে যেগুলো গবেষকগণ রেফারেন্স বই হিসেবে পড়ার সুযোগ পান।

ছবি



Share with :

Facebook Twitter